দশ বহুজাতিক কোম্পানির বাজার মূলধন কমেছে ১৩ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা

সদ্য সমাপ্ত ২০২৪ সালে দেশের পুঁজিবাজারের অবস্থা ছিল হতাশাজনক। সার্বিকভাবে লেনদেন কিছুটা বাড়লেও এ সময় সূচক উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পয়েন্ট হারিয়েছে।

সদ্য সমাপ্ত ২০২৪ সালে দেশের পুঁজিবাজারের অবস্থা ছিল হতাশাজনক। সার্বিকভাবে লেনদেন কিছুটা বাড়লেও এ সময় সূচক উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পয়েন্ট হারিয়েছে। বিদেশী বিনিয়োগ পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়নি। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারের ভালো শেয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদিও গত বছর তালিকাভুক্ত ১৩ বহুজাতিক কোম্পানির মধ্যে ১০টিরই শেয়ারদর কমেছে। এ সময়ে তালিকাভুক্ত ১০ বহুজাতিক কোম্পানি বাজার মূলধন কমেছে ১৩ হাজার ৬০৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২০২৪ সালে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ২২৬ কোটি ৮০ লাখ, গ্রামীণফোনের ৪ হাজার ৯২৮ কোটি ৬০ লাখ ও ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ারের বাজার মূলধন বেড়েছে ১ হাজার ২২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ তিন বহুজাতিক কোম্পানির বাজার মূলধন বেড়েছে ৬ হাজার ১৭৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে গত বছর সবচেয়ে বেশি ৮ হাজার ১৫৯ কোটি ৪০ লাখ টাকার বাজার মূলধন কমেছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানির (বিএটিবিসি)। বছর শেষে কোম্পানিটির বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৮৫০ কোটি ৪০ লাখ টাকায়। গত বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির মুনাফা কমেছে আড়াই শতাংশ।

লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের বাজার মূলধন ১ হাজার ৭৮৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা কমে বছর শেষে ৬ হাজার ২৫৯ কোটি ৮০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। গত বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির মুনাফা কমেছে ৩৬ দশমিক ৫ শতাংশ। টেলিযোগাযোগ খাতের বহুজাতিক কোম্পানি রবি আজিয়াটার বাজার মূলধন গত বছর শেষে ৮৯০ কোটি ৪০ লাখ টাকা কমে ১৪ হাজার ৮২৩ কোটি ৪০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। গত বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে ১৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ।

২০২৪ সালে আরএকে সিরামিকস বাংলাদেশের বাজার মূলধন কমেছে ৮৬৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। বছর শেষে কোম্পানিটির বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৯৬৭ কোটি ২০ লাখ টাকায়। গত বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির মুনাফা কমেছে ১২৭ দশমিক ১ শতাংশ। লিন্ডে বাংলাদেশের বাজার মূলধন গত বছর ৫৭৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা কমে ১ হাজার ৫৫১ কোটি ৫০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। গত বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে ১ হাজার ১৪৬ শতাংশ।

ম্যারিকো বাংলাদেশের বাজার মূলধন ২০২৪ সালে ৫৬০ কোটি ৪০ লাখ টাকা কমেছে। বছর শেষে কোম্পানিটির বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ১৯০ কোটি ৮০ লাখ টাকায়। গত বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির মুনাফা ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। সিঙ্গার বাংলাদেশের বাজার মূলধন ২০২৪ সালে ৩৫৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা কমে ১ হাজার ১২৮ কোটি ৬০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। গত বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির মুনাফা কমেছে ৯২ দশমিক ৪ শতাংশ।

রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশের বাজার মূলধন গত বছর ১৯৪ কোটি ১০ লাখ টাকা কমেছে। বছর শেষে কোম্পানিটির বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৫ কোটি ৪০ লাখ টাকায়। গত বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির মুনাফা কমেছে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়ালস বাংলাদেশের বাজার মূলধন গত বছর ১০১ কোটি ৭০ লাখ টাকা কমে ১ হাজার ২৫১ কোটি ৬০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির মুনাফা কমেছে ১৮ দশমিক ১ শতাংশ। গত বছর বাটা সু কোম্পানি বাংলাদেশের বাজার মূলধন ৮৪ কোটি ১০ লাখ টাকা কমে ১ হাজার ২৩৮ কোটি ৬০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির মুনাফা কমেছে ৪২ দশমিক ৩ শতাংশ।

২০২৪ সালে দেশের পুঁজিবাজারের সূচক কমেছে ১ হাজার ৩০ পয়েন্ট বা ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। বছরের শুরুতে ডিএসইর সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ছিল ৬ হাজার ২৪৬ পয়েন্টে। গত বছরের শেষ কার্যদিবসে সূচকটি দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২১৬ পয়েন্টে। এ সময়ে বাজার মূলধন ১৫ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৬ লাখ ৬২ হাজার ৬২০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালে ডিএসইর দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ৯ শতাংশ।

আরও